স্টাফ রিপোর্টারঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর–চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া বাজারে একটি হাইস্কুল, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসা, চারটি ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান, ছয়টি হোটেলসহ চার শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন এখানে শত শত মানুষের সমাগম হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ব্যবহারযোগ্য কোনো গণশৌচাগার না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাধ্য হয়ে বাজারের পাশের একটি মসজিদের পরিত্যক্ত শৌচাগার ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হয়ে পড়েছে। অথচ ঠিক পাশেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্তৃক নির্মিত আধুনিক গণশৌচাগারটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। নির্মাণকাজ বহু আগেই শেষ হলেও এখনো তা জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। ফলে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে গণশৌচাগারটির রং, পানির কল, কমোড ও বৈদ্যুতিক বাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে চারটি গণশৌচাগার নির্মাণের কাজ শেষ হয়। এতে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে ইজারা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এখনো সেগুলো তালাবদ্ধ রয়েছে। মসজিদ কমিটি, বাজার কমিটি নাকি ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে—এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।
একই অবস্থা দেখা গেছে উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরবর্তী আলতাফ মাস্টার ইলিশা ঘাট, দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মোল্লারহাট বাজার এবং রায়পুর শহরের বাসটার্মিনাল এলাকায় নির্মিত গণশৌচাগারগুলোতেও। শৌচাগারগুলো প্রায় এক বছর ধরে উদ্বোধনের অপেক্ষায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা শহরে বিভিন্ন কাজে আসা হাজারো মানুষ প্রয়োজনের সময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে চরম বেকায়দায় পড়েন। বিশেষ করে বাসটার্মিনাল এলাকার পরিত্যক্ত শৌচাগারে ঢুকতে অনেকেই আতঙ্ক বোধ করেন। এ ভোগান্তির স্থায়ী সমাধানে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গায় নির্মিত একটি গণশৌচাগারের দুই দিকের প্রবেশমুখেই তালা ঝুলছে। অনেকদিন ধরে বন্ধ থাকায় এর চারপাশও অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে, দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ব্যস্ততম মোল্লারহাট বাজারের গরুহাট ও কাঁচাবাজার এলাকায় নির্মিত গণশৌচাগারটিরও একই অবস্থা। নির্মাণকাজ শেষ হলেও অজ্ঞাত কারণে এখনো উদ্বোধন করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন হাটবাজারে আসা হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। নিরুপায় হয়ে অনেককে খোলা স্থানে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে সাড়া দিতে হচ্ছে। এতে নারীরা পড়ছেন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলী বিলকিস আক্তার, সহকারী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন এবং রায়পুরের উপসহকারী প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিন জানান, অবহেলায় পড়ে থাকা গণশৌচাগারগুলো দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এগুলো জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
এদিকে রায়পুর পৌরসভা–এর সচিব মুজিব মাসউদ বলেন, বাসটার্মিনাল এলাকার গণশৌচাগার ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।













