সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় জোনভিত্তিক লকডাউন

লক্ষ্মীপুর সময় ডেস্কঃ

করোনা সংক্রমণের হার বিবেচনায় জোনভিত্তিক লকডাউন দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর রাজাবাজার এলাকায় চলতি সপ্তাহে পরিকল্পনামূলক কার্যকর হতে পারে লকডাউন। এলাকায় আলাদা আইসোলেশন সেন্টার, নমুনা সংগ্রহের বুথ ও পরীক্ষা কেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, পরিকল্পনায় থাকা এসব বিষয় অপেক্ষায় আছে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের।

সাধারণ ছুটি আর নয়। এবার লকডাউনের পথে হাঁটছে সরকার। তবে তা কার্যকর হবে খানিকটা ভিন্ন উপায়ে।

পরিকল্পনায় আছে, ঝুঁকি বিবেচনায় বিভিন্ন এলাকাকে তিন রংয়ে ভাগ করার। রাজধানী ঢাকায় প্রতি এক লাখ মানুষের ৩০ কিংবা ৪০ জনের বেশি আক্রান্ত এমন এলাকাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রেড বা লাল জোনে চিহ্নিত করে পুরোপুরি লকডাউন ঘোষণা করা হবে। আর ৩ থেকে ২৯ কিংবা ৩৯ জন আক্রান্ত এলাকাকে বিবেচনা করা হবে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ ইয়েলো বা হলুদ জোন। বাকি এলাকাগুলো চিহ্নিত হবে গ্রিন বা সবুজ জোন হিসেবে। প্রতিটি জোনের জন্য থাকছে আলাদা আলাদা নির্দেশনাবলী। সংশ্লিষ্ট এলাকার নাগরিকদের মেনে চলতে হবে তা।

প্রাথমিকভাবে রাজধানীর রাজাবাজার ও ওয়ারী এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতি কার্যকরের পরিকল্পনা থাকলেও এখনো অপেক্ষায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনুমোদনের।

২৭ নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান ইরান বলেন, এবার আমরা কোনভাবেই কাউকে বের হতে দেব না। খাবার, চিকিৎসা যা লাগে সব আমরা করে দেব।

পরিকল্পনা আছে লকডাউন এলাকার জন্য আলাদা আইসোলেশন সেন্টার, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার জন্য বিশেষায়িত কেন্দ্রে করার। এরই মধ্যে সোমবার (০৮ জুন) সকালে রাজধানীর রাজাবাজারে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আইসোলেশন সেন্টার করা যায় কিনা, তা সরেজমিনে দেখে যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও আইইডিসিআর প্রতিনিধিরা।

লে. কর্নেল গোলাম মোস্তফা সরওয়ার বলেন, যদি এলাকাকে আমরা লকডাউন করি তাহলে এলাকাবাসী অন্য কোথাও যেতে পারবে না। তখন আমরা একটা টেস্টিং বুথ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করতে পারি।

এদিকে, এতসব পরিকল্পনা থাকলেও এখনো সচেতনতার ছিটেফোঁটাও দেয়া যায়নি সাধারণ মানুষের মধ্যে। লকডাউন নিয়েও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হাবিবুর রহমান জানান, বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে রূপরেখা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে আমরা প্রকাশ করবো। সেটাকে লকডাউন বলা হবে নাকি অন্য কিছু বলা হবে তা তখন জানা যাবে।

দেশে মোট সংক্রমিত ব্যক্তির অর্ধেকই শনাক্ত হয়েছেন ঢাকায়। সূত্রঃ সময় সংবাদ।

এই জাতীয় আরো খবর

আপনার মতামত জানাতে পারেন।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.