শরীর শীতল করা যন্ত্রটি যে কারণে ‘নিরব বোমা’

লক্ষ্মীপুর সময় ডেস্কঃ

দেশে প্রায়ই ঘটছে এসি বিস্ফোরণের ঘটনা। এতে ঘটছে প্রাণহানিও। করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অফিস আদালত খোলার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আবারও সচল হবে অচল থাকা এসিগুলো।

বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, বন্ধ থাকা এসি ব্যবহারে অধিক সতর্ক না হলে ঘটতে পারে বিস্ফোরণসহ নানা দুর্ঘটনা।

বাসা থেকে অফিস শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি ব্যবহার এখন সর্বত্র। ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে এসি বিস্ফোরণের ঘটনাও। শীতের সময়টা বন্ধ থাকা এসি গ্রীষ্মকালে ব্যবহারের আগে সতর্ক করা হলেও নেই তেমন কোনো সচেতনতা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিএফএক্স রক্ষণাবেক্ষণের অভাব আর নিম্নমানের হওয়ায় সাধারণত এসি’র বিস্ফোরণ ঘটে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা এসির ভেতরের পাইপের কোথাও ব্লকেজ হলেও এসির ভেতরে উচ্চ চাপ তৈরি হয়ে কম্প্রেসার ব্লাস্ট হতে পারে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আলোক কুমার মজুমদার বলেন, ‘এসির অনেক মেইনটেইনস আছে। যেগুলোকে আমরা সার্ভিসিং বলি। এগুলো অবশ্যই করাতে হবে। এসি চালানোর আগে অবশ্যই অনেক কিছু চেক করতে হবে।’

এসি দুর্ঘটনার জন্য একনাগাড়ে ৮ ঘণ্টার বেশি এসি চালানো এবং আউটডোর ইউনিট ও আউটডোর বিল্ডিংয়ের মধ্যে যথেষ্ট ফাঁকা স্থান না রেখে এসি বসানোকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফায়ার সার্ভিসের সাবেক পরিচালক আবু নায়েম শহিদুল্লাহ বলেন, ‘এসিতে যখন ময়লা বেড়ে যায়, তখন এসিতে অনেক লোড টানে। আর যখন এই লোড টানে তখন যদি সামান্য লুজ কানেকশন থাকে বা নিম্ন মানের সরঞ্জামও যদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেখান থেকে হয় শর্টসার্কিট, আর তা থেকে অগ্নিকাণ্ড হতে পারে।’

ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে শুধু রাজধানীতে এসি বিস্ফোরণে ৪ নিহত হয়েছেন। দগ্ধ হয়েছেন ২২ জন। সবশেষ রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে এসি বিস্ফোরণ বলেই ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

রাজধানীতে সুউচ্চ ভবণ যত বেশি তার চেয়ে কয়েক হাজারগুণ বেশি রয়েছে এসি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীর শীতল করে দেওয়া যন্ত্রটি কখনও কখনও নিরব বোমা। যা বিস্ফোরণে ঘটায় প্রাণহানি। এসব এসি বসানোর আগে এবং পরে রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি।

সূত্রঃ সময় সংবাদ।

এই জাতীয় আরো খবর

আপনার মতামত জানাতে পারেন।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.